খবরের বিস্তারিত...

FB_IMG_1617015282953

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ —অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আখতারী

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ ——-অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আখতারী।

পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হলো বাংলাদেশ নামক এ রাষ্ট্রের। ঐতিহাসিক পরিক্রমায় ভারতবর্ষ দীর্ঘ প্রায় 2শত বছর বৃটিশদের পরাধীন থাকার পর অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে1947 সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দু’টি পৃথক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে অত্র অঞ্চলে। একটি হলো ভারত এবং অপরটি পাকিস্তান। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট অঞ্চল হিসেবে পূর্ব বাংলা পূর্ব পাকিস্তানে রূপান্তরিত হয়ে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু ধর্ম ব্যতীত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নৃ-তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে ছিল যোজন যোজন দূরত্ব। এছাড়া তৎকালীন দু’অঞ্চলের মধ্যকার ভৌগোলিক দূরত্বও ছিল প্রায় 1500 মাইল। যেটি অভিন্ন রাষ্ট্র হওয়ার ক্ষেত্রে ছিল বিরাট অন্তরায়। তথাপিও পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয় এতদাঞ্চলের মানুষ। ধর্মীয় দিক দিয়ে একই ধর্মাবলম্বী হলেও পশ্চিম পাকিস্তানীরা ছিল মজ্জাগতভাবে বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষী। যৎকারণে এরা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর বরাবরই অমানবিক অত্যাচার শোষন-নিপীড়ন, বৈষম্য ও নির্যাতন অব্যাহত রাখে। এ অশুভ শক্তি ভাষার অধিকার পর্যন্ত ছিনতাই করার পাঁয়তারা করে রক্তাক্ত সংগ্রামের দিকে ঠেলে দেয় এতদাঞ্চলের মানুষকে। পশ্চিম পাকিস্তান এর চেয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা অপেক্ষাকৃত অধিক হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্টের ভাষা বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঘৃন্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। 1948 সালে বাংলা ভাষা নিয়ে ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েই মূলতঃ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয় পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে। ফলে ধারাবাহিক সংগ্রামী প্রক্রিয়ায় স্বাধীনতা মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙ্গালি একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায় ক্রমাগত।1948 সালে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতির দাবীতে সূচিত ভাষা আন্দোলন 1952 সালে গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। শহীদ রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতের রক্তের উপর দিয়ে মাতৃভাষা বাংলা লাভ করে রাষ্ট্রভাষার আনুষ্ঠানিক মর্যাদা। অতঃপর 1954 সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, 1962 সালের শিক্ষা আন্দোলন, 1966 সালের 6 দফা আন্দোলন ও 1969 সালের গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এ ক্ষোভ চুড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আর এ পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হয় 1970 সালের গণ র্নিবাচন। এ নির্বাচনে গোটা পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জনে সক্ষম হয়। পাকিস্তানের সংবিধান মোতাবেক বিজয়ী দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর বাধ্যতামূলক থাকলেও এ নিয়ে শুরু হয় গভীর ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো বিজয়ী দল আওয়ামীলীগের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করতে সংবিধান বিরোধী নানাবিধ চক্রান্তে লিপ্ত হয়। অতঃপর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে লেলিয়ে দেয় নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর। ঐসময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা বাঙালির রক্তে নাচন ধরিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ জাতি,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র নির্বিশেষে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। জনগণ সর্বত্র গড়ে তোলে তীব্র প্রতিরোধ। বিক্ষিপ্ত এ প্রতিরোধ পরিণত হয় সশস্ত্র জনযুদ্ধে। যে যুদ্ধে প্রাণহানি ঘটে 30 লক্ষ মানুষের। সম্ভ্রমহানি ঘটে প্রায় 2লক্ষ নিরপরাধ মা-বোনের। দীর্ঘ 9 মাস এ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে দৃঢ় প্রত্যয় ও অবিচল আস্থা নিয়ে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যায় বাঙ্গালি। কোনপ্রকার প্রশিক্ষন ব্যতিরেকে এবং কোন রণকৌশল এর প্রাক অভিজ্ঞতা না থাকার পরও শুধুমাত্র গেরিলা ট্রেনিং করে পাকিস্তানের সুসজ্জিত, প্রশিক্ষিত ও চৌকষ একটি সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে 1971 সালে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে কাঙ্খিত স্বাধীনতা। 25 বছরের শোষন-বঞ্চনা,নিপীড়ন-নির্যাতন, জুলুম-অত্যাচার,ও বৈষম্য-দুঃশাসনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে বাঙালি জাতি। বিজয়ী হয় লাল-সবুজের পতাকা। বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেয় একটি দেশ, বাংলাদেশ। পূর্ব পাকিস্তান রূপান্তরিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রে। বিশ্ব অঙ্গনে বাঙালি জাতি গৌরবময় একটি স্বকীয় অবস্থান সৃষ্টিতে সক্ষমতা অর্জন করে। অতঃপর 1972 সালের 10 জানুয়ারী বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। নানামুখী ষড়যন্ত্রের ভেতরেও বঙ্গবন্ধু যখন তাঁর গগনচুম্বী ব্যক্তিত্ব ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে যায় ইতিহাসের নির্মম ট্রাজেডি। মীর জাফরের প্রেতাত্মারা এবং স্বাধীনতা বিরোধী দেশদ্রোহী অপশক্তি 1975 সালের 15 আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে অত্যন্ত নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। অতঃপর এদেশে প্রতিষ্ঠা পায় হত্যা,ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। যে ধারাবাহিকতায় সদ্য স্বাধীন হওয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি নীতি-নৈতিকতাবিহীন সামরিক শাসনাধীনে প্রবেশ করে অপ্রত্যাশিতভাবে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা ও অনুশীলন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জাতির ঘাড়ে জগদ্বল পাথরের ন্যায় চেপে বসে সামরিক শাসন, স্বৈর শাসন ও এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা। লঙ্ঘিত হতে থাকে মানবাধিকার। ভুলুন্ঠিত হতে থাকে নাগরিক মৌলিক অধিকার। হনন করা হয় জনগনের ভাত ও ভোটের অধিকার। দেশ ও জাতি নিপতিত হয় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের দিকে। সর্বোপরি গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনই হয়ে পড়ে কলুষিত। এছাড়া আত্ন ও দলকেন্দ্রিকতার অশুভ প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ে প্রায় সকল রাজনৈতিক দল। সন্ত্রাস,অস্ত্রবাজি,হরতাল ও নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠা পায় স্থায়ীভাবে। উপরন্তু অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে উত্থান ঘটে স্বাধীনতা বিরোধী দেশদ্রোহী অপশক্তির। শুধু তাই নয়, এ অপশক্তি রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। এমনকি জাতীয় নীতি নির্ধারনেও এ অপশক্তির অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ হতবাক বিষ্ময়ে প্রত্যক্ষ করে এদেশের জনগণ।
যাইহোক,এসব অবাঞ্ছিত কারণে রাষ্ট্র সময়ে সময়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে ঠিকই। তবে আবার ঘুরেও দাড়িয়েছে এ বীরের জাতি। যেকারনে বেশ কিছু অবাক করা সাফল্যে দেশের অর্জনের তালিকা আজ অধিকতর সমৃদ্ধ। যেমন -2015 সালের জুলাই মাসে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পা রাখার সক্ষমতা অর্জন করে এদেশ। উপরন্তু ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রাথমিক স্বীকৃতিও লাভ করে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে 8: 15 এ উন্নীত হয়েছে। শুধু তাই নয়, উন্নয়ন-অগ্রগতিতে দক্ষিন এশিয়ায় অনেক সূচকে ভারত-পাকিস্তান থেকেও এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ এর জাতীয় বাজেট এখন 1লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। বিশ্বব্যাংক এর সাথে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে 30হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সমর্থ হয় এদেশ। এ নিয়ে বহুমাত্রিক অপপ্রচার-প্রোপাগাণ্ডা অব্যাহত থাকলেও পদ্মা সেতুর মত স্বপ্নের সোনার হরিণ আজ দৃশ্যমান। যা সত্যিকার অর্থে বিস্ময়ের বিস্ময়। ইতোপূর্বে যে বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিল অথচ আজ সেই বাংলাদেশ তাবৎ দুনিয়ায় উন্নয়নের রোল মডেল। উল্লেখ্য যে, উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতিতে এ বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসন দখল করে নেয়। নিঃসন্দেহে সকলের সমীহ আদায়ে সক্ষম হয়। আন্তর্জাতিক ফোরামে ভার্গিনিং পাওয়ার অর্জন করে। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় উল্লেখযোগ্য আরও কিছু বিষয়ের উল্লেখ করতে হয়। যেমন-বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-1 উৎক্ষেপন, সমুদ্র সীমা অর্জন, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ,পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, ঢাকা মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রায় 12লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিঃশর্ত আশ্রয় প্রদান, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, রপ্তানী আয় বৃদ্ধি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ প্রভৃতি ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক কিছু। বাংলাদেশের এ অর্জন নিঃসন্দেহে মহাগৌরবের। এ অর্জনকে সুদৃঢ় ও সুসংহত করতে হবে। যেজন্য কিছু আবশ্যকীয় বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা বাঞ্ছনীয় বৈ কি।
* যেমন-সর্বাগ্রে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে হবে। কেননা জাতীয় উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে দুর্নীতি অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক খাতসমূহের নিরাপত্তা নেই। দেশের এমন কোন খাত নেই যেখানে দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটেনি।
* অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনয়ন করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কোন ব্যবস্থা নেই। প্রায় সকলেরই নিকট অর্থ-বিত্তের মোহ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থ-সম্পদ আহরণে মানুষের লাগামহীন আকাঙ্খা সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে আমলা,বিচার ব্যবস্থা, আইন-শৃংখলা বাহিনী, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সর্বত্র অর্থনৈতিক দূর্বৃত্তের কবলে পতিত হয়েছে।
* শ্রমজীবি মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। কেননা এ কথা কোনভাবেই বিস্মৃত হবার নয় যে,দেশের এ সাফল্যের অন্তরালে সিংহভাগ অবদান কিন্তু শ্রমজীবি মানুষের। তন্মধ্যে গার্মেন্টস খাত ও বৈদেশিক রেমিটেন্স অন্যতম।
* কর্ম সংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কর্ম সংস্থান খাত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারী বেসরকারীভাবে বিভিন্ন মেঘা প্রকল্প, বিনিয়োগ কিংবা অর্থনৈতিক খাতের সম্প্রসারণ ঘটানোর দিকে মনোযোগী হতে হবে। দেশে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু যে হারে উন্নয়ন হচ্ছে,সে তুলনায় কর্মসংস্থান হচ্ছে না। উন্নয়নযজ্ঞ যত অধিক হবে, ততই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হওয়া স্বাভাবিক হলেও এক্ষেত্রে তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। কর্ম সংস্থানের অভাবে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশী নাগরিক সারা বিশ্বে বসবাস করছে। অথচ এদেশে কর্ম সংস্থানের ব্যাপক সুযোগ থাকার পরও বৃহৎ এ জনগোষ্ঠিকে বোঝা হিসেবে ভাবা হচ্ছে। এ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা কিছু যৌক্তিক কারণ চিহ্নিত করেছেন। যেমন-দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের অপ্রতুলতা, অটোমেশন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য- প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্য সম্পাদন ইত্যাদি।
* তথ্য-প্রযুক্তির উপর যুগোপযোগী প্রশিক্ষনের মাধ্যমে যোগ্য শ্রমিক গড়ে তুলতে হবে। যেহেতু ধীরে ধীরে সকল পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটছে, সকল সেক্টরই তথ্য-প্রযুক্তির আওতাভুক্ত হচ্ছে। উল্লেখ্য গার্মেন্টস শিল্পে স্বভাবতই কর্ম সংস্থান বেশী হয়। কিন্তু এ খাতের অধিকাংশ ক্ষেত্রে অদক্ষ জনবল নিয়োগ পেয়ে থাকে। বর্তমানে এ খাতও অটোমেশন বা প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে কর্ম সংস্থানের ক্ষেত্রও অপেক্ষাকৃত হ্রাস পেয়েছে। এ খাতে যারা প্রযুক্তিজ্ঞানে দক্ষ কেবল তারাই টিকে থাকছে। আর প্রযুক্তিজ্ঞানহীনরা অপাংক্তেয় হিসেবে কর্মহীন হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে বেকারত্বের লিস্ট ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। তবে তথ্য প্রযুক্তিকে কোনভাবেই নেতিবাচক বলা যাবে না। কেননা তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমেই দেশ বহুদুর এগিয়ে যাবে। তাই এক্ষেত্রে যুগোপযোগী প্রশিক্ষনের মাধ্যমে যোগ্য শ্রমিক সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। এছাড়া বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। যেথায় বিদ্যমান রয়েছে শিল্পায়নের সবচেয়ে অনুকুল পরিবেশ। যে কারণে পশ্চিমাদের পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষে। ভৌগোলিক অবস্থা ও সহজলভ্য শ্রমিকের কারণে তাদের নজর বাংলাদেশের দিকে। বাংলাদেশের এ অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এরা উম্মুখ হয়ে আছে। তাই বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষনে কতিপয় প্রতিবন্ধকতাকেও মাড়াতে হবে বাংলাদেশকে। যেমন- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা, যাতায়াত ব্যবস্থা ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন,নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণসহ সুশাসন নিশ্চিত করা। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অটুট রেখে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার লক্ষ্যার্জনে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখাসহ একটি সচ্ছ জবাবদিহিমূলক, পেশাদারী ও দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। পরিশেষে এটুকু বলতে চাই, হাল সনেই বাঙালি জাতি উদযাপন করতে যাচ্ছে এদেশের মহান স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী। এ মাহেন্দ্রক্ষনে বিশ্ব পরিমণ্ডলে অনন্য উচ্চতায় দৃশ্যমান এক বাংলাদেশ। যেটি আজ বিশ্ব জাতিসত্তার ইতিহাসে মহান গৌরবে দেদীপ্যমান। বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে অর্জিত বাঙালি জাতির এ সাফল্যধারা অব্যাহত থাকুক এটিই প্রত্যাশা। নিরুপদ্রব ও নিস্কন্টক হোক এ অগ্রযাত্রা। সর্বপ্রকার অপচ্ছায়া মুক্ত থাকুক দেশ ও জাতি।

সূত্রঃ দৈনিক পূর্বকোণ,২৯ মার্চ ২০২১।

Comments

comments

Related Post